রাশিয়াকে কেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না?
১৯৯১ সালের ২৫শে ডিসেম্বর। সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো। সর্বশেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ পদত্যাগ করলেন আনুষ্ঠানিকভাবে।মিখাইল গর্বাচেভের জায়গায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন বরিস ইয়েলৎসিন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে আমেরিকার শীতল যুদ্ধ শুরু হয়।এই যুদ্ধের অবসান ঘটে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে।সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের জন্য অনেক সময়ই আমেরিকার কূটকৌশলকে দায়ী করা হয়।ইয়েলৎসিন ক্ষমতায় আসার পরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রুপান্তর শুরু হয়। এর ফলে রাশিয়ান ফেডারেশন মন্দার ধাক্কা সামলাতে পারেনি।প্রথম সংস্কারবাদী সরকার যেন তাই বেশ কিছুটা তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল। খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসের ওপর থেকে কমিউনিস্ট যুগের ভর্তুকি রাতারাতি তুলে নেওয়া হলো। ১৯৯২ সালের পহেলা জানুয়ারি রাশিয়ার মানুষ দোকানে গিয়ে দেখলেন, এক রাতেই সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। সেসময় মস্কোতে নিযুক্ত বিবিসির সংবাদদাতা নিজের চোখে দেখেছেন রুশ অর্থনীতিতে এই 'শক থেরাপি' কিভাবে কাজ করেছে।1
(সূত্র)
এমনকি ৭৫% রাশিয়ান সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কে নিজের দেশের স্বর্নযুগ মনে করেন।2 সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের জন্য দায়ী আমেরিকার সাথে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরাধিকার রাশিয়ার ঐতিহাসিক শত্রুতা।
(সূত্র)
সিরিয়া কিংবা ইউক্রেনে ক্রিমিয়া ইস্যু নিয়ে রাশিয়ার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধ সদস্য হওয়ার পথে মূল বাধা নয়।মূল বাধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ন্যাটোর মূল মোড়ল আমেরিকা।একই এলাকায় দুই নীতির দুই মোড়ল থাকলে সমস্যা আরো জট পাকাবে। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে শুরু করে রাশিয়ার নিজ রাষ্ট্রের বেশ কিছু স্বার্থ পরিত্যাগ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সাথে হাত মেলাতে হবে।তাই রাশিয়া নিজেই আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে চায় না।তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোই নানা সময় নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে।
রাশিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে দাবার বোর্ডে checkmate দেওয়া সম্ভব নয়।(সূত্র)
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য রাশিয়ার এতো মাথাব্যথা নেই।ই.ইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের প্রয়োজনেই রাশিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাইবে কারণ ইউরোপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ পাইপলাইন দিয়ে আসে রাশিয়া থেকে। পূর্ব ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশের প্রায় শতভাগ জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ আসে গাজপ্রমের কাছ থেকে।3