← Back to postsInternational Politics
BanglaPublished Dec 12, 2020Updated Dec 12, 20203 min read

অবশেষে কাতারের ওপর থেকে সৌদি জোটের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কী অর্জন করেছে সৌদি জোট? কাতারের কতটুকু ক্ষতি হলো?

Middle East

কাতার নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কাছাকাছি সময়ে এই প্রথম সৌদি জোট কোনো মুসলিম প্রধান দেশের উপকারে আসলো।

২০১৭ সালের জুন মাসে চারটি প্রতিবেশী দেশ যখন কাতারের উপর অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত - এ চারটি দেশ একসাথে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করেছিল।

কাতারের উপর আরোপিত অভিযোগ কাতারের উপর আরোপিত অভিযোগ (সূত্র)

সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বলতে সৌদি জোট যা বুঝিয়েছে—

কাতারের কাছে অন্যতম দাবি হলো মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস, অন্যান্য ইসলাম-পন্থী সংগঠন এবং ইরানের মদদপুষ্ট মিলিশিয়া - এ ধরণের সব গোষ্ঠীর সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্কচ্ছেদ করা।

এ চারটি দেশ অবরোধ তুলে নেবার বিনিময়ে কাতারকে ১৩টি শর্ত দিয়েছিল।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে - ইরানের সাথে কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা, আল-জাজিরা টিভি চ্যানেল বন্ধ করা। কিন্তু কাতার কোন শর্ত মানেনি।

অবরোধের উপকার-

  • আমদানিকৃত পণ্যের ৬০ ভাগ আসতো এ চারটি দেশ থেকে।এর মধ্যে খাদ্যদ্রব্যই প্রধান। সুতরাং অবরোধ আরোপের পর কাতারকে বিকল্প পথ দেখতে হয়েছে।এছাড়া দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানো শুরু করে। দুধের চাহিদা মেটানোর জন্য হাজার-হাজার গরু আমদানি করছে কাতার।
  • অবরোধ শুরু হবার তিনমাস পর হামাদ সমুদ্র বন্দরে ৭.৪ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প উন্মুক্ত করে।এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্র বন্দরে পণ্যবাহী অনেক জাহাজ ভিড়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাতার অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার উদ্দেশ্যে নিজ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
  • অবরোধের পর কাতার মূলত তুরস্ক এবং ইরানের মাধ্যমে বিকল্প পথে খাদ্যসহ বিভিন্ন পন্য আমদানি শুরু করে।এর ফলে তুরস্ক বিশেষ করে ইরানের সাথে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে,যে ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল।
কাতার অবরোধের ব্যঙ্গচিত্র কাতার অবরোধের ব্যঙ্গচিত্র (সূত্র)

সুতরাং, সৌদি জোটের এই নিষেধাজ্ঞা কাতারের শাপে বর হয়েছে। কাতারের অর্থনীতি শক্তিশালী এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সৌদি জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই জন্য সৌদি জোটকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

এছাড়াও ট্রাম্পের জামাতা জেরাড কুশানারকেও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। কাতারের রাজপরিবারের সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল-থানির কাছ থেকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন কুশনার। শেখ হামাদ বিন জসিম আল-থানি অর্থ দিতে রাজি হলেও নানা কারণে পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। কুশনার শ্বশুর মশাইয়ের ক্ষমতা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ

My main article in Quora-Bangla