সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র সিধুজ্যাঠার সত্যিই কি কোনও অস্তিত্ব ছিল? সিধুজ্যাঠার সঙ্গে বাস্তবের কোন মানুষটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
সিধু জ্যাঠা সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি ফেলুদা সিরিজের একটা চরিত্র। এই সিধু জ্যাঠা ফেলুদার সত্যিকারের আত্মীয় না হলেও আত্মীয়ের বাড়া(তপেশের ভাষ্যমতে) ফেলুদা সিরিজের সব উপন্যাসে সিধু জ্যাঠার উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও সিধু জ্যাঠার গুরুত্ব কম নয়।সিধু জ্যাঠাকে বিশ্বকোষের সাথে তুলনা করলেও খুব একটা ভুল হবে না। বিভিন্ন ক্রিমিনাল কেস নিয়ে নাড়াচাড়ার সময় একজন গোয়েন্দার নানা রকম তথ্যের দরকার হয়। তখন তো আর এখনকার মতো ইন্টারনেট ছিল না। তাই বিভিন্ন ঘটনার পেপার কাটিং পাওয়ার জন্য সিধু জ্যাঠাই ছিল ফেলুদার একমাত্র ভরসা। সিধু জ্যাঠা বিভিন্ন কেসে উপদেশ দিয়ে ফেলুদাকে সাহায্যও করেছিলেন। ফেলুদার মতো সিধু জ্যাঠারও গোয়েন্দাগিরির জন্য মগজ অস্ত্র ছিল কিন্ত ফেলুদার মতো উদ্যম নেই।
সিধু জ্যাঠার মতো বইপোকা প্রচুর আছে।আর পেপার কাটিং সংগ্রহ করার বাতিক আমার নিজেরই ছিল,আশেপাশের অনেকের মধ্যেই দেখেছি-ইন্টারনেটের এই যুগে এর গুরুত্ব বেশ কমে গেছে বলেই মনে হয়।
বেশিরভাগ গবেষকেদের মতে,সিধু জ্যাঠা একক কোনো ব্যাক্তির রুপ ছিল না। তবে সত্যজিৎ রায়ের সাথে নির্মল কুমার নামে এক ভদ্র লোকের পরিচয় ছিল।সিধু জ্যাঠার মতো নির্মল কুমারেরও পেপার ক্লিপিংয়ের স্ক্র্যাপবুক ছিল। এছাড়া নির্মল কুমারের সংগ্রহে প্রায় ৮০ হাজার বই ছিল। সিধু জ্যাঠা যেমন ফেলুদা ছাড়া আর কাউকে বই ধার দিতেন না ঠিক তেমনি নির্মল কুমারও সত্যজিৎ রায় ছাড়া আর কাউকে বই ধার দিতেন না।
নির্মল কুমার (সূত্র)
সিধু জ্যাঠার চেহারার সাথে নির্মল কুমারের চেহারার মিল না থাকলেও নির্মল কুমারের কক্ষের সাথে সিধু জ্যাঠার কক্ষের মিল পাবেন অবশ্যই। (২০১৭)
তথ্যসূত্র:
——
উত্তরের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। ফেলুদা যদি মিনিয়ন হতো
বলুন তো,মিনিয়নদের মধ্যে কে ফেলুদা,জটায়ু,তপসে? (সূত্র)