ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কারণেই কি ইসরায়েল ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারেনি?
১৯৬০ সালে আমেরিকার একটি বিমান থেকে তোলা ছবির সূত্র ধরে বলা হয় ইসরায়েল পরমাণু বোমা বানানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তৎকালীন সময় সব গণমাধ্যমের হেডিং ছিল এটি। ইসরায়েল যতই বলে ওটা টেক্সটাইল মিল,কেউ সেটা বিশ্বাস করেনি। ইসরায়েলের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কোনো মাথাব্যথা ছিল না ।
পারমানবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশসমুহ (২০১৭)(সূত্র)
এছাড়াও বিভিন্ন সূত্রমতে ইসরায়েলের কাছে নিউট্রন বোমাও রয়েছে ।
মিশন মিসর
১৯৬২ সালের ২১ জুলাই মিসরের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সংবাদ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। মোসাদ প্রধান এক দক্ষ গোয়েন্দাকে এ ব্যাপারে মিসর পাঠালেন। গোয়েন্দার রিপোর্ট থেকে জানা যায় জার্মানির বিজ্ঞানীরা মিসরকে এই প্রকল্পে সহায়তা করে,এই প্রকল্পে দুটি পারমাণবিক বোমাও বানানো হবে। এই প্রকল্প ভন্ডুল করার জন্য এই প্রকল্পে যুক্ত জার্মানির বিজ্ঞানীদের বিরুদ্ধে কিলিং মিশনে নামে মোসাদ। হেনজ ক্রুগকে,ড.ক্লেইনওয়াচারকে হত্যা করা হয়,পিলেজকে হত্যার জন্য পাঠানো হয় পত্র বোমা, ড. পলে গোয়েরকে একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ড. অট্টো জেকলিক তো মৃত্যুভয়ে স্বপক্ষ ত্যাগ করে বসেন। মোসাদের এই মিশন সফল হয়,ভন্ডুল হয় মিসরের প্রকল্প।
মিশন ইরাক
১৯৮১ সালে বাগদাদের কাছে ওসিরাক পারমাণবিক চুল্লি চালুর পূর্বেই ইসরায়েল তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এই হামলা চালাতে আরো দুটি আরব রাষ্ট্র জর্ডান এবং সৌদির আকাশ সীমা লঙ্গন করা হয়। এছাড়াও ইরাকের তিনজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে গুপ্ত হত্যা করা হয়।
মিশন সিরিয়া
Deir Az Zor এর কাছের সিরিয়ান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে হামলার আগের ও পরের ছবি (সূত্র)
মিশন ইরান
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ড. আরদাশির হোসেনপুরকে তেজস্ক্রিয় বিষ দিয়ে হত্যা করে মোসাদের হিট টিম। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি প্রফেসর মামুদ আলী মোহাম্মদী গাড়ির লক খোলার সময় প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে,ছিন্ন ভিন্ন হয়ে মোহাম্মদীর মৃতদের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর ড. মাজিদ শাহরিয়ারের গাড়ির পেছনে উইন্ডশিল্ডে একটি হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী ছোট্ট একটি বিস্ফোরক যন্ত্র বসিয়ে দেয়। বিস্ফোরণ ঘটলে ড. মজিদ নিহত এবং তাঁর স্ত্রী আহত হোন। অনুরূপ একই ধরনের বিস্ফোরণে ড. ফেরদাউন আব্বাসী দাভানী এবং তাঁর স্ত্রী আহত হোন। ২০১১ সালের ২৩ জুলাই ইরানি বিজ্ঞানী রেজাই নাজাদাই নিহত হোন।
মোসাদের গুপ্ত হামলায় নিহত ইরানি বিজ্ঞানীদের তালিকা(সূত্র)
নাশকতা শুরু হয় ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডাইলেম পারমাণবিক কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে। মিশাইলের আঘাতে বুশেহারে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। নতুন আরেকটি পারমাণবিক ক্যাসকেড উদ্বোধনের বোতামে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে, চেম্বারের পাইপগুলো খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়।২০১০ সালের গ্রীষ্মকালে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের হাজার-হাজার কম্পিউটার উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করে। স্টাক্সনেট নামক ভাইরাসের কারণে এসব কম্পিউটার যেসব সেন্ট্রিফিউজ নিয়ন্ত্রণ করতো তা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোসাদের এই মিশন যে শেষ হয়নি ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসিন ফখরিযাদের মৃত্যু তার প্রমাণ।
ইসরায়েল প্রথম থেকেই চেয়েছে, পারমাণবিক শক্তির চাবিকাঠি যেন একমাত্র ইসরায়েলের হাতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশ যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে তাহলে ইসরায়েলের দখল করা আরব ভূমিসমূহ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।