ইতিহাসের সাক্ষী "যেদিন কাবুল দখল করলো সোভিয়েত সৈন্যরা ১৯৭৯ সালে সরকার বিরোধী অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়ে আফগানিস্তানে ঢুকে পড়ে সোভিয়েত সৈন্যরা"
প্রেক্ষাপট
১৯৭৩ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে চাচাতো ভাই জেনারেল মোহাম্মদ দাউদ খানের হাতে জহির শাহর পতন ঘটলে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে।১৯৭৮ সালে পিডিপিএ(পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আফগানিস্তান) নামে দাউদ খানের সরকারের সাবেক মিত্রর এক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হোন এবং ক্ষমতা দখল করে নেন নূর মোহাম্মদ তারাকি ক্ষমতা দখল করে নেন।
ক্ষমতা থাকা অবস্থায় বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপ নিলেও কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপও নেন যেমন বিয়ের প্রচলিত রীতিনীতি পরিবর্তন,ভূমির মালিকানা সংস্কার।সোভিয়েত ইউনিয়নের সংস্কৃতি এবং সমাজতন্ত্রের অনুকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। যার ফলে ঐতিহ্যবাহী উপজাতীয় ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং গ্রামাঞ্চলে ইসলামিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
যার ফলে বেশ কিছু সরকারবিরোধী বিদ্রোহ হয়।সরকার এই সকল বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করতে গিয়ে বিদ্রোহ আরো উসকে দেয়।প্রায় ২৭,০০০ রাজনৈতিক বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পিডিপিএ নেতৃত্ব জর্জরিত হয়ে পড়ে।১৯৭৯ সালে হাফিজউল্লাহ আমিন,তারিকীকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানের সমাজতান্ত্রিক সরকারের পতন আঁচ করতে পেরে ১৯৭৯ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে, সেনা মোতায়েন করে এবং হাফিজউল্লাহ আমিনকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সাথে দেশের জনগণও যোগ দেয়,যাদেরকে মুজাহিদিন বলা হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বর্বরতা
সোভিয়েত সৈন্যরা আফগানিস্তানের শহর ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো দখল করে, অন্যদিকে মুজাহিদিনরা আফগানিস্তানের যে ৮০ শতাংশ ভূমি আফগান সরকার ও সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল সেসব অংশে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে গেরিলা যুদ্ধ আরম্ভ করে। সোভিয়েতরা আফগান বিদ্রোহী ও বেসামরিক জনগণকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার জন্য বিমানশক্তি ব্যবহার করে, মুজাহিদিনদের নিরাপদ আশ্রয় লাভের সুযোগ না দেয়ার উদ্দেশ্য গ্রামের পর গ্রাম মাটিতে মিশিয়ে দেয়, সেচ খালগুলো ধ্বংস করে এবং লক্ষ লক্ষ ভূমি মাইন ছড়িয়ে দেয়।এই যুদ্ধে ৬ থেকে প্রায় ২০ লাখ আফগান প্রাণ হারান যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।1
যুদ্ধের ফলাফল
১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনীর পলায়ন (সূত্র)
১৯৮৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন সৈন্য প্রত্যাহার করে।তার দুই বছর পরই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।আফগানিস্তানে ব্যর্থতা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম কারণ।সোভিয়েত ইউনিয়ন বলেছিল,ছয় মাসের মধ্যে বিদ্রোহ দমন করতে পারবে কিন্ত দশ বছরেও সফল হতে পারেনি।
তালেবানের উত্থান
মুজাহিদিনদের কাছে বানের জলের মতো আমেরিকার পক্ষ থেকে অস্ত্র আসতে থাকে।মূলত আফগানিস্তান দেশটি আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস্তব যুদ্ধ ক্ষেত্র হয়ে উঠে।এদিকে মজার বিষয় হলো ইসরায়েলও সুন্নি মুজাহিদদের সমর্থন দান করে।যা অযৌক্তিক এবং বিস্ময়কর।অথচ ১৯৭৩ সালে আরবদের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ হয়।সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর দেশের বিরাট জনগোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র থাকার কারণে দেশে সহিংসতা সৃষ্টি হয় এবং ১৯৮৯ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যার ফলাফল তালেবানের উত্থান।