বাংলাদেশের কি ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্রদান করা উচিত?
ইসরায়েলে প্রায় ৮৩ লক্ষ লোকের বাস। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ; এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮১ জন অধিবাসী বাস করে। এদের মধ্যে ৬১ লক্ষ ইহুদি জাতি ও ধর্মাবলম্বী এবং ১৭ লক্ষ আরব জাতিভুক্ত (যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান)।1 সুতরাং ইসরায়েলে সবাই ইহুদি তাই বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিচ্ছে না বিষয়টি যৌক্তিক নয়।অমুসলিম দেশগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। আবার ভেনেজুয়েলা,কিউবা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সাথে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করে।2 মূলত নৈতিকতার দিক থেকেই বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান করছে না।
কি সেই নৈতিকতা?
ইসরায়েলের দখলদারিত্বের চিত্র (সূত্র):
এমনকি ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং অবৈধ আবাস স্থাপন বেড়েই চলছে।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে সমর্থন করে না।
এই অল্প লেখায় পুরো বর্বরতা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। চাইলে পড়তে পারেন-
- রমজানে ফিলিস্তিনিদের পানি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল
- অবরুদ্ধ গাজায় কীভাবে জীবন কাটে ফিলিস্তিনিদের? - BBC News বাংলা
- ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত গাজায় নিহত ৫৫ - BBC News বাংলা
- বিক্ষোভে উত্তাল গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি - BBC News বাংলা
- ফিলিস্তিনিদের করোনা পরীক্ষার ক্লিনিক ধ্বংস করল ইসরায়েল
- ফিলিস্তিনিদের খাবার পানিতে বিষ মেশানোর আহ্বান ইহুদি যাজকের
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় ফিলিস্তিনি শিশুরাও ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা থেকে রেহাই পায় না।
- ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি শিশু নির্যাতন, জাতিসংঘের নিন্দা
- ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে চোখ হারাল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিওসহ)
- ফিলিস্তিনের ৩ বছরের শিশুকে বন্দি করলো ইসরায়েলি সেনা
- ফিলিস্তিনি শিশু দিয়ে অস্ত্র পরীক্ষা করছে ইসরায়েল
- ইসরায়েলে বন্দি ৬ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু | দেশ রূপান্তর
- সন্তানের কী দোষ ছিল, ইসরায়েলের কাছে জবাব চান বাবা
- ফিলিস্তিনি কিশোরকে বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা
- ২০১৭’তে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ১১ শিশুকে হত্যা করেছে
প্রশ্ন উঠতে পারে কিছু মুসলিম দেশও তো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।১৯৪৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য তুরস্ক ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়।যদিও এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার মুলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মিসর ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। ১৯৭৯ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি অনুযায়ী মিসর প্রতিবছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সাহায্য পায় মার্কিনদের থেকে।3 আবার বাহরাইন এবং আরব আমিরাতও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে নিজেদের রাজতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব কমানোর জন্য।
বাংলাদেশ যদি ইসরায়েলকে স্বীকৃত দেয় তবে ইসরায়েল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে,আবার ইসরায়েল থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে অন্যদিকে ইসরায়েলও লাভবান হবে যদি বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয় কারণ বাংলাদেশই হবে দক্ষিণ এশিয়ার স্বীকৃতি দানকারী একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এত দুর্বল নয় যে ইসরায়েলের বিনিয়োগ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।ইসরায়েলের দখলদারিত্ব না থামা পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিবে না কারণ
"অন্যায় যে করে এবং অন্যায় যে প্রশ্রয় দেয়-দুইজনেই সমান অপরাধী"